এন্ডোসকপি কি | এন্ডোসকপি কেন করা হয় | এন্ডোসকপি খরচ কত
বর্তমান সময়ে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, পেটব্যথা, বমি বা খাবার গিলতে কষ্ট এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। এসব সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে সাধারণ পরীক্ষা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। তখন চিকিৎসকরা যে পরীক্ষাটি সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দেন, সেটি হলো এন্ডোসকপি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের অঙ্গ সরাসরি দেখা যায়, ফলে রোগ নির্ণয় হয় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে। এই আর্টিকেলে এন্ডোসকপি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
এন্ডোসকপি কি
এন্ডোস্কপি হলো একটি চিকিৎসা পরীক্ষা, যেখানে চিকন ও নমনীয় একটি টিউব (এন্ডোস্কোপ) শরীরের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে ভেতরের অঙ্গগুলো সরাসরি দেখা হয়। টিউবটির মাথায় ক্যামেরা ও আলো থাকে, ফলে চিকিৎসক পেট, খাদ্যনালি বা অন্ত্রের ভেতরের অবস্থা পরিষ্কারভাবে দেখতে পারেন।
এটি সাধারণত গ্যাস্ট্রিক, আলসার, রক্তক্ষরণ, টিউমার বা সংক্রমণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। ব্যথা খুব কম হয় এবং অনেক সময় অল্প সেডেশন দিয়ে করা হয়।
এন্ডোসকপির প্রকারভেদ
এন্ডোসকপি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন
-
আপার জিআই এন্ডোসকপি: খাদ্যনালি, পাকস্থলী ও ডুওডেনাম
-
কোলোনোস্কপি: বৃহদান্ত্র পরীক্ষা
-
ব্রঙ্কোস্কপি: ফুসফুস ও শ্বাসনালি
-
সিস্টোস্কপি: মূত্রথলি পরীক্ষা
এন্ডোসকপি কেন করা হয়
এন্ডোসকপি করা হয় মূলত পেট ও খাদ্যনালীর ভেতরের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য। এই পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, রক্তক্ষরণ, ইনফেকশন, টিউমার বা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা যায়। এছাড়া অজানা পেটব্যথা, বমি, খাবার গিলতে কষ্ট, কালো পায়খানা বা রক্তবমির কারণ জানতেও এন্ডোসকপি করা হয়।
-
দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বালা
-
খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া
-
অজানা পেটব্যথা
-
বারবার বমি হওয়া
-
রক্তবমি বা কালো পায়খানা
-
আলসার বা ক্ষত শনাক্ত
-
টিউমার বা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয়
-
সংক্রমণ বা রক্তক্ষরণের উৎস খুঁজে বের করা
এন্ডোসকপি কি কষ্টকর
স্বাভাবিকভাবে বলতে গেলে, এন্ডোসকপি খুব বেশি কষ্টকর নয়। পরীক্ষার সময় গলায় বা পেটে সামান্য অস্বস্তি, বমি ভাব বা চাপ অনুভব হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গলা অবশ করার স্প্রে বা হালকা সেডেশন দেওয়া হয়, ফলে ব্যথা বা কষ্ট অনেক কম থাকে। পরীক্ষা শেষ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই অস্বস্তি চলে যায়।
এন্ডোসকপির ঝুঁকি আছে কি
এন্ডোসকপি সাধারণত নিরাপদ। তবে খুব বিরল ক্ষেত্রে
-
সামান্য রক্তক্ষরণ
-
সংক্রমণ
-
গলা বা পাকস্থলীতে জ্বালা
এই ধরনের হালকা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত দ্রুত সেরে যায়।
এন্ডোসকপির আগে কী প্রস্তুতি লাগবে
এন্ডোসকপির আগে সাধারণত
-
৬–৮ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হয়
-
কিছু ওষুধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে
-
ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসককে জানাতে হয়
এন্ডোসকপি করার পর কী হয়
পরীক্ষার পর অল্প সময় বিশ্রাম নেওয়া ভালো। সেডেশন নিলে কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালানো বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। গলায় হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি থাকতে পারে, যা দ্রুত সেরে যায়।
এন্ডোসকপি খরচ কত
সরকারি হাসপাতালে সাধারণত খরচ তুলনামূলক কম হয়। এখানে এন্ডোসকপি করতে প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা লাগে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু রেজিস্ট্রেশন ও আনুষঙ্গিক খরচ দিতে হয়।
বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খরচ কিছুটা বেশি হয়। সাধারণ এন্ডোসকপির জন্য সাধারণত ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। নামকরা হাসপাতাল বা অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের কাছে করলে খরচ আরও বাড়তে পারে।
যদি সেডেশন (ঘুমের ওষুধ) ব্যবহার করা হয়, বা বায়োপসি (মাংসের নমুনা নেওয়া) লাগে, তাহলে অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়। সে ক্ষেত্রে মোট খরচ ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
সবচেয়ে ভালো হয়, পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট হাসপাতাল বা সেন্টারে যোগাযোগ করে মোট খরচ, রিপোর্ট দেওয়ার সময় এবং সেডেশন আছে কি না—এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেওয়া।
এন্ডোসকপি খরচ কত বাংলাদেশে
বাংলাদেশে এন্ডোসকপি করার খরচ নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যেমন হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ধরন, শহর, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, সেডেশন বা বায়োপসি করা হচ্ছে কি না ইত্যাদি।
বাংলাদেশে এন্ডোসকপির খরচ হাসপাতালভেদে আলাদা হয়
-
সরকারি হাসপাতাল: প্রায় ১,০০০–২,০০০ টাকা
-
বেসরকারি হাসপাতাল: প্রায় ২,০০০–৫,০০০ টাকা
-
সেডেশন বা বায়োপসি লাগলে খরচ আরও বাড়তে পারে
এন্ডোসকপি খরচ কত পপুলার
বাংলাদেশের পপুলার হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এন্ডোসকপি (Upper GI Endoscopy) খরচ সাধারণত নিম্নরূপ:
🔹 Popular Diagnostic Centre – প্রায় ≈ ২,০০০ – ৩,৫০০ টাকা (সাধারণ এন্ডোসকপি)
🔹 Ibn Sina Hospital – প্রায় ≈ ২,০০০ – ৪,৫০০ টাকা; ডিসকাউন্টে ~১৫০০ টাকাও হতে পারে
🔹 Square Hospitals Ltd – প্রায় ≈ ৩,০০০ – ৫,০০০ টাকা
🔹 United Hospital – প্রায় ≈ ৩,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা
🔹 Labaid Specialized Hospital – প্রায় ≈ ২,৮০০ – ৪,৮০০ টাকা
💡 সাধারণত সরকারি হাসপাতালগুলোতে দাম কম, কিন্তু জনপ্রিয় বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্র, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যায়, তাই দাম একটু বেশি হয়।
👉 যদি সেডেশন বা বায়োপসি লাগে, তবে খরচ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হাসপাতালের সাথে আগে ফোন করে বর্তমান দাম ও সুযোগ সম্পর্কে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
এন্ডোসকপি খরচ কত ইবনে সিনা
ইবনে সিনা হাসপাতালে এন্ডোসকপি খরচ সাধারণত এভাবে ধরা যায় 👇
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে সাধারণ আপার জিআই এন্ডোসকপি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা। শাখাভেদে (ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, গাজীপুর ইত্যাদি) এই খরচ একটু কম–বেশি হতে পারে।
যদি সেডেশন (ঘুমের ওষুধ) ব্যবহার করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ১,০০০–২,০০০ টাকা যোগ হতে পারে। আর যদি বায়োপসি লাগে, সেক্ষেত্রে মোট খরচ ৫,০০০ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে।
👉 সবচেয়ে সঠিক ও আপডেটেড তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট ইবনে সিনা শাখায় ফোন করে এন্ডোসকপি চার্জ, সেডেশন ফি এবং রিপোর্ট ডেলিভারি সময় জেনে নেওয়াই ভালো।
এন্ডোসকপি আধুনিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরীক্ষা, যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে। সময়মতো এন্ডোসকপি করালে জটিল রোগ আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেরি না করে এই পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
