এসিল্যান্ড বেতন কত | এসিল্যান্ড হওয়ার যোগ্যতা ও ক্যারিয়ার
বাংলাদেশের ভূমি প্রশাসনে “এসিল্যান্ড” একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাসম্পন্ন পদ। জমি সংক্রান্ত বিরোধ, নামজারি, খাস জমি বন্দোবস্ত, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সবকিছুতেই এসিল্যান্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী জানতে চান এসিল্যান্ড বেতন কত, এসিল্যান্ড এর কাজ কি, এবং কীভাবে এসিল্যান্ড হওয়া যায়। এই আর্টিকেলে এসিল্যান্ড পদের কাঠামো, দায়িত্ব, বেতন, যোগ্যতা, পদোন্নতি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ সব বিষয় বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।
এসিল্যান্ড কি
এসিল্যান্ড এর পূর্ণরূপ Assistant Commissioner (Land)। এটি উপজেলা পর্যায়ে ভূমি প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা।
এসিল্যান্ড মূলত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, যিনি ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।
এই পদে নিয়োগ দেয়
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে।
এসিল্যান্ড এর প্রধান কাজ কি?
এসিল্যান্ডের কাজ বহুমুখী ও দায়িত্বপূর্ণ। নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো
১. নামজারি (Mutation) ও জমি সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তি
জমির মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন যাচাই
খারিজ/নামজারি অনুমোদন
রেকর্ড সংশোধন
জমির দলিল ও কাগজপত্র যাচাই
এটি এসিল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
২. খাস জমি ব্যবস্থাপনা
সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ
খাস জমির তালিকা সংরক্ষণ
এসিল্যান্ড খাস জমি সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন করেন।
৩. ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) তদারকি
জমির কর আদায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ
বকেয়া আদায় নিশ্চিত করা
অনলাইন ভূমি সেবা কার্যক্রম তদারকি
৪. ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা থাকলে এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেন।
অবৈধ দখল উচ্ছেদ
পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন
বাজার তদারকি
৫. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি
জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ
সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা
দখল সংক্রান্ত অভিযোগ
এসিল্যান্ড প্রাথমিক তদন্ত করে প্রশাসনিক সমাধান দেন।
৬. ডিজিটাল ভূমি সেবা বাস্তবায়ন
বর্তমানে বাংলাদেশে ভূমি সেবা ডিজিটাল হয়েছে। এসিল্যান্ড অনলাইন নামজারি, ই-খতিয়ান, ই-নামজারি কার্যক্রম তদারকি করেন।
এসিল্যান্ড হওয়ার যোগ্যতা
বাংলাদেশে এসিল্যান্ড অর্থাৎ Assistant Commissioner (Land) হওয়া অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তবে এটি সরাসরি কোনো আলাদা নিয়োগের পদ নয়। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে মাঠ প্রশাসনে পোস্টিং পেলে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যায়। নিচে এসিল্যান্ড হওয়ার সকল যোগ্যতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
এসিল্যান্ড কীভাবে হওয়া যায়
এসিল্যান্ড হতে হলে আপনাকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যা পরিচালনা করে
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)।
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে উপজেলা পর্যায়ে এসিল্যান্ড হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যায়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
এসিল্যান্ড হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে পড়াশোনা বাধ্যতামূলক নয়।
ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা
স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (Honours) বা সমমান ডিগ্রি
৪ বছরের অনার্স অথবা ৩ বছরের ডিগ্রি + মাস্টার্স
ফলাফল সংক্রান্ত শর্ত:
তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি সীমিত সংখ্যক গ্রহণযোগ্য (সরকারি নিয়ম অনুযায়ী)
একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন অযোগ্য হতে পারেন
এসিল্যান্ড বেতন কত
এসিল্যান্ড ৯ম গ্রেডের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা।
মূল বেতন (৯ম গ্রেড)
২২,০০০ টাকা (শুরু)
সর্বোচ্চ ৫৩,০৬০ টাকা
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা
বাড়িভাড়া ভাতা
চিকিৎসা ভাতা
যাতায়াত ভাতা
উৎসব ভাতা (দুইবার)
বৈশাখী ভাতা
সরকারি বাসভবন
সরকারি গাড়ি (কিছু ক্ষেত্রে)
মোট মাসিক প্রাপ্তি
সব মিলিয়ে ৪৫,০০০ – ৮০,০০০+ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (পোস্টিংভেদে ভিন্ন হয়)
এসিল্যান্ড একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ সরকারি পদ। ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ভালো বেতন, ভাতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়া যায়। তবে এই পদে আসতে হলে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং কঠোর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে হবে।
আপনি যদি প্রশাসনিক ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং নেতৃত্ব দিতে চান, তাহলে এসিল্যান্ড হওয়া হতে পারে আপনার জন্য একটি বড় লক্ষ্য।
