আমেল মঞ্জিল ভিসা কি | আমেল মঞ্জিল ভিসা বেতন কত
মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের কাছে আমেল মঞ্জিল ভিসা একটি পরিচিত নাম। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কিছু উপসাগরীয় দেশে এই ভিসার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কর্মী কাজ করছেন। তবে অনেকেই এই ভিসা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য না জেনেই বিদেশে যান, যার ফলে পরে সমস্যায় পড়তে হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো আমেল মঞ্জিল ভিসা কি, এই ভিসায় কী ধরনের কাজ করা যায়, আমেল মঞ্জিল ভিসার বেতন কত, এবং এই ভিসার সুবিধা–অসুবিধা ও বাস্তব চিত্র।
আমেল মঞ্জিল ভিসা কি
আমেল মঞ্জিল ভিসা মূলত একটি গৃহকর্মী বা ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা।
আরবি ভাষায়
আমেল (Amel) = কর্মী
মঞ্জিল (Manzil) = বাসা / বাড়ি
অর্থাৎ, এটি এমন একটি ভিসা যেখানে কর্মীকে ব্যক্তিগত বাসায় কাজ করার জন্য নেওয়া হয়।
এই ভিসা কোম্পানি, ফ্যাক্টরি বা দোকানের জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে একজন ব্যক্তিগত কাফিল (Sponsor) এর অধীনে পরিচালিত হয়।
কোন কোন দেশে আমেল মঞ্জিল ভিসা বেশি প্রচলিত
সৌদি আরব
কুয়েত
ওমান
সংযুক্ত আরব আমিরাত (কিছু ক্ষেত্রে)
এই ভিসা সাধারণত পুরুষ ও নারী—উভয়ের জন্যই দেওয়া হয়।
আমেল মঞ্জিল ভিসা কাজ কি
আমেল মঞ্জিল ভিসায় কাজের ধরন মূলত গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত সেবা ভিত্তিক।
সাধারণ কাজের তালিকা
বাসা পরিষ্কার ও ঝাড়ু দেওয়া
কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি
রান্নায় সহায়তা
বাচ্চা দেখাশোনা
বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন
বাজার করা ও বাসার ছোটখাটো কাজ
চুক্তিতে কী কাজ উল্লেখ থাকবে, তার উপরেই দায়িত্ব নির্ভর করে।
কোন কাজ করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ
আমেল মঞ্জিল ভিসায় নিচের কাজগুলো করা আইনসম্মত নয়—
কনস্ট্রাকশন কাজ
ফ্যাক্টরি বা ওয়ার্কশপ কাজ
দোকান বা মার্কেট কাজ
অন্যের বাসায় কাজ করা
এগুলো করলে ভিসা বাতিল বা আইনি সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আমেল মঞ্জিল ভিসা বেতন কত
আমেল মঞ্জিল ভিসার বেতন দেশ, কাফিল ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে।
সাধারণ বেতন
মাসিক বেতন: ৮০০ – ১,২০০ সৌদি রিয়াল
বাংলাদেশি টাকায়: প্রায় ২৩,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা
অভিজ্ঞ কর্মীর বেতন
অভিজ্ঞতা ও ভালো রেফারেন্স থাকলে
১,২০০ – ১,৫০০ রিয়াল পর্যন্ত পাওয়া যায়
অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা কাফিল দেয়, তাই সেভিং তুলনামূলক ভালো হয়।
বেতন বাড়ে কীভাবে
কাজ ভালো করলে
দীর্ঘ সময় একই কাফিলের অধীনে থাকলে
চুক্তি নবায়নের সময় আলোচনা করলে
কাজের সময় ও ছুটি ব্যবস্থা
দৈনিক কাজের সময়: ৮–১২ ঘণ্টা
সাপ্তাহিক ছুটি: অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়
ছুটি ও বিশ্রাম সম্পূর্ণভাবে কাফিলের উপর নির্ভরশীল
এজন্য চুক্তিপত্র আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ
আমেল মঞ্জিল ভিসার সুবিধা
ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ
নতুনদের জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ
থাকা ও খাওয়ার খরচ নেই
ভাষা না জানলেও কাজ করা যায়
শুরুতে বড় বিনিয়োগ লাগে না
আমেল মঞ্জিল ভিসার অসুবিধা ও ঝুঁকি
কাজের সময় দীর্ঘ হতে পারে
কাফিল পরিবর্তন করা কঠিন
সব সময় শ্রম আইন পুরোপুরি কার্যকর হয় না
খারাপ কাফিল হলে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে
আমেল মঞ্জিল ভিসা নেওয়ার আগে করণীয়
লিখিত চুক্তিপত্র নিশ্চিত করা
বেতন ও কাজের ধরন পরিষ্কারভাবে জানা
বিশ্বস্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি ব্যবহার করা
ভিসা কপি ও পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখা
আমেল মঞ্জিল ভিসা কাদের জন্য উপযুক্ত
যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম
যারা প্রথমবার বিদেশে যেতে চান
যারা ফ্যাক্টরি বা ভারী কাজ করতে চান না
যারা বাসায় থেকে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন
সব মিলিয়ে বলা যায়, আমেল মঞ্জিল ভিসা হলো গৃহস্থালি কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ ভিসা। এই ভিসায় বেতন খুব বেশি না হলেও থাকা–খাওয়ার সুবিধা থাকায় অনেকেই মাস শেষে ভালো সেভিং করতে পারেন। তবে কাজের সীমাবদ্ধতা ও কাফিল নির্ভরতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
