রমজান মাসের ফজিলত বিষয়ক সাধারন জ্ঞান | গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

রমজান মাস মুসলমানদের জীবনে এক অনন্য ও বরকতময় মাস। এটি শুধু রোজা রাখার মাস নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, গুনাহ মাফের সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের পথে চলার পথ সহজ করে দেওয়া হয়।

রমজান মাসের ফজিলত বিষয়ক সাধারন জ্ঞান | গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

রমজান নিয়ে কিছু কথা

রমজান এমন এক মাস, যে মাসে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে
“রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)

এই মাসে করা প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। একটি নফল ইবাদত ফরজের মর্যাদা পায়, আর একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব সত্তর গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

রমজান মাসের ফজিলত

রোজা এমন একটি ইবাদত, যার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন—
“রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব।”

রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও মনকে গুনাহ থেকে সংযত রাখার নাম। রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল, সংযমী ও সহানুভূতিশীল করে তোলে।

মাগফিরাত ও নাজাতের মাস

রমজানের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে নাজাতের সময়। বিশেষ করে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই এক রাতের ইবাদত পুরো জীবনের ইবাদতের চেয়েও বেশি ফজিলতপূর্ণ।

রমজান আমাদের কী শিক্ষা দেয়

রমজান আমাদের শেখায়

  • আত্মসংযম ও তাকওয়া

  • গরিব-দুঃখীর কষ্ট অনুভব করা

  • আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য

  • কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা

  • অহংকার, হিংসা ও লোভ থেকে দূরে থাকা

রমজান নিয়ে স্ট্যাটাস

রমজান এমন এক মাস, যার শুরুতে রহমত, মাঝামাঝিতে মাগফিরাত এবং শেষে জাহান্নাম থেকে মুক্তি। 

রমজান রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: ইফতার এবং রবের সাথে সাক্ষাতের মুহূর্ত।

রমজান মাস শরীর ও আত্মা, উভয়কে পরিশুদ্ধ করার মাস।

রমজান মাসে আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে যায় এবং গুনাহ ক্ষমা হয়।

রমজান শুধু রোযার মাস নয়, এটি তাকওয়া অর্জনের মাস।

রমজানে ইফতারের সময় দোয়া বরকত ও কবুলের সময়।

রমজান আমাদের আত্মাকে আলোকিত করে এবং গোনাহ থেকে মুক্তি দেয়। 

রমজান মানেই ঐক্য, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি সেবা। 

রমজানের চাঁদ উঠেছে—আলহামদুলিল্লাহ! রহমত ও মাগফিরাতের মাস শুরু হয়েছে।

রমজানে ইবাদতে থাকি সকাল-সন্ধ্যে, হৃদয়ে শুদ্ধি ধরাই।

রমজানের প্রতিটি দিনই বরকতময় হোক।

রমজান এসে রহমত হয়ে, ইবাদতে থাকি সকাল-সন্ধেতে।

রমজানে দোয়া করি, আল্লাহ আমাদের সকল রোজা ও ইবাদত কবুল করুন। 

রমজান মাসে ইমান ও তাকওয়া অর্জনের সৌভাগ্য নিয়ে এগিয়ে চলি।

রমজান—নেক কাজের মাস, দান-সদকার মাধ্যম।

রমজান মাসে ইসলামিক স্ট্যাটাস শেয়ার করে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিই।

রমজান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ রমজান মাস কী?
উত্তরঃ রমজান হলো ইসলামের নবম মাস, যে মাসে রোজা রাখা ফরজ।

প্রশ্নঃ রমজানে রোজা রাখা কেন ফরজ?
উত্তরঃ আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মাধ্যমে রোজা ফরজ করেছেন।

প্রশ্নঃ রোজা কাকে বলে?
উত্তরঃ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলে।

প্রশ্নঃ রোজা কত প্রকার?
উত্তরঃ রোজা তিন প্রকার—ফরজ, ওয়াজিব ও নফল।

প্রশ্নঃ রমজান মাসের ফজিলত কী?
উত্তরঃ এই মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্নঃ রমজানে কুরআন নাজিল হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ মানুষের জন্য হিদায়াত ও পথনির্দেশনার জন্য।

প্রশ্নঃ সাহরি খাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ সাহরিতে বরকত রয়েছে এবং এটি সুন্নত।

প্রশ্নঃ ইফতার কখন করা উত্তম?
উত্তরঃ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম।

প্রশ্নঃ ভুলে খেলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ না, ভুলে খেলে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ ইচ্ছাকৃত খেলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ইচ্ছাকৃত খেলে রোজা ভেঙে যায়।

প্রশ্নঃ রোজা ভেঙে গেলে কী করতে হয়?
উত্তরঃ কাজা আদায় করতে হয়, কিছু ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হয়।

প্রশ্নঃ তারাবিহ নামাজ কী?
উত্তরঃ রমজানে এশার নামাজের পর আদায়কৃত সুন্নত নামাজ।

প্রশ্নঃ তারাবিহ নামাজ কত রাকাত?
উত্তরঃ সাধারণত ২০ রাকাত।

প্রশ্নঃ লাইলাতুল কদর কী?
উত্তরঃ হাজার মাসের চেয়েও উত্তম একটি রাত।

প্রশ্নঃ লাইলাতুল কদর কখন হয়?
উত্তরঃ রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে।

প্রশ্নঃ রমজানের প্রথম দশককে কী বলা হয়?
উত্তরঃ রহমতের দশক।

প্রশ্নঃ রমজানের দ্বিতীয় দশককে কী বলা হয়?
উত্তরঃ মাগফিরাত বা ক্ষমার দশক।

প্রশ্নঃ রমজানের শেষ দশককে কী বলা হয়?
উত্তরঃ জাহান্নাম থেকে নাজাতের দশক।

প্রশ্নঃ ফিতরা কী?
উত্তরঃ গরিবদের জন্য দেওয়া ওয়াজিব দান।

প্রশ্নঃ ফিতরা কখন আদায় করতে হয়?
উত্তরঃ ঈদের নামাজের আগে আদায় করা উত্তম।

প্রশ্নঃ ইতিকাফ কী?
উত্তরঃ আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা।

প্রশ্নঃ ইতিকাফ কখন করা হয়?
উত্তরঃ রমজানের শেষ দশ দিনে।

প্রশ্নঃ অসুস্থ ব্যক্তি কি রোজা ছাড়তে পারে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সুস্থ হলে পরে কাজা করবে।

প্রশ্নঃ মুসাফিরের জন্য রোজার বিধান কী?
উত্তরঃ সফরে রোজা না রেখে পরে কাজা করা যায়।

প্রশ্নঃ গর্ভবতী নারীর রোজার হুকুম কী?
উত্তরঃ ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে রোজা ছাড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ দুধ পান করানো মায়ের রোজার হুকুম কী?
উত্তরঃ সন্তানের ক্ষতি হলে রোজা ছাড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা কেমন?
উত্তরঃ এটি বড় গুনাহ এবং রোজার সওয়াব কমায়।

প্রশ্নঃ রোজা কি শুধু না খাওয়ার নাম?
উত্তরঃ না, সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থাকার নাম।

প্রশ্নঃ রমজানে দোয়া কবুল হয় কেন?
উত্তরঃ এটি আল্লাহর বিশেষ রহমতের মাস।

প্রশ্নঃ রমজান আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
উত্তরঃ তাকওয়া, ধৈর্য ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়।

প্রশ্নঃ রমজান শেষে কোন ঈদ আসে?
উত্তরঃ ঈদুল ফিতর।

প্রশ্নঃ রমজানে নিয়ত করা কেন জরুরি?
উত্তরঃ নিয়ত ছাড়া রোজা সহিহ হয় না।

প্রশ্নঃ নিয়ত কখন করা যায়?
উত্তরঃ সুবহে সাদিকের আগে পর্যন্ত নিয়ত করা যায়।

প্রশ্নঃ মুখে নিয়ত বলা কি জরুরি?
উত্তরঃ না, অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তরঃ ব্যবহার করা যায়, তবে গিলে ফেললে রোজা ভাঙবে।

প্রশ্নঃ মিসওয়াক ব্যবহারে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ না, মিসওয়াক ব্যবহারে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ সাধারণ ইনজেকশনে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, স্যালাইন নিলে রোজা ভেঙে যায়।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ না, রক্ত দিলে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ দিলে কী হয়?
উত্তরঃ এতে সাধারণত রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় নাকে ড্রপ দিলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ নাক দিয়ে পেটে পৌঁছালে রোজা ভেঙে যায়।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় বমি হলে কী হবে?
উত্তরঃ ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভাঙে।

প্রশ্নঃ অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ না, অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কী হবে?
উত্তরঃ এতে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সুগন্ধি ব্যবহার করা যায়।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় চুমু দিলে রোজা ভাঙে কি?
উত্তরঃ কামভাব না থাকলে রোজা ভাঙে না।

প্রশ্নঃ রমজানে বেশি কুরআন তিলাওয়াতের কারণ কী?
উত্তরঃ এই মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে।

প্রশ্নঃ রমজানে গুনাহের শাস্তি বেশি কেন?
উত্তরঃ পবিত্র সময়ে গুনাহের অপরাধ গুরুতর হয়।

প্রশ্নঃ রমজানে নেক আমলের সওয়াব কেন বেশি?
উত্তরঃ আল্লাহ এই মাসে সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

প্রশ্নঃ রমজানে শয়তান বন্দি থাকে কেন?
উত্তরঃ মানুষ যেন সহজে নেক পথে চলতে পারে।

প্রশ্নঃ রোজাদারের মুখের গন্ধের মর্যাদা কী?
উত্তরঃ আল্লাহর কাছে তা মেশকের চেয়েও প্রিয়।

প্রশ্নঃ ইফতারের সময় কোন দোয়া কবুল হয়?
উত্তরঃ ইফতারের মুহূর্তের দোয়া কবুল হয়।

প্রশ্নঃ রোজাদারের দোয়া কবুল হয় কেন?
উত্তরঃ রোজাদার আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত।

প্রশ্নঃ রমজানে বেশি ঘুমানো কেমন?
উত্তরঃ এতে ইবাদতে ক্ষতি হলে অনুচিত।

প্রশ্নঃ রমজানে ঝগড়া করলে কী হয়?
উত্তরঃ রোজার সওয়াব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশ্নঃ রোজা অবস্থায় গিবত করা কেমন?
উত্তরঃ এটি বড় গুনাহ এবং রোজার ফজিলত নষ্ট করে।

প্রশ্নঃ রোজা কি ধৈর্যের শিক্ষা দেয়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল করে।

প্রশ্নঃ রোজা কি গরিবের কষ্ট বুঝতে সাহায্য করে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ক্ষুধার মাধ্যমে সহানুভূতি বাড়ায়।

প্রশ্নঃ রমজানে দান-সদকা বেশি করা কেন উত্তম?
উত্তরঃ এই মাসে দানের সওয়াব বেশি।

প্রশ্নঃ রমজান মাস কি আত্মশুদ্ধির মাস?
উত্তরঃ হ্যাঁ, এটি আত্মসংযম ও তাকওয়ার মাস।

প্রশ্নঃ রমজান শেষে ঈদের খুশির কারণ কী?
উত্তরঃ এক মাস ইবাদত সম্পন্ন করার আনন্দ।

প্রশ্নঃ রমজান জীবনে পরিবর্তন আনে কেন?
উত্তরঃ নিয়মিত ইবাদত চরিত্র গঠনে সহায়ক।

প্রশ্নঃ রমজান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস কেন?
উত্তরঃ এই মাসে ইবাদতের সুযোগ বেশি থাকে





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url