অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ | ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর
বাংলাদেশে ভূমি মালিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ভূমি উন্নয়ন কর, যা সাধারণভাবে খাজনা নামে পরিচিত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত জমির বৈধতা বজায় রাখা, সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ রাখা এবং ভবিষ্যতে ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনগত জটিলতা এড়াতে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই খাজনা বকেয়া থাকলে নামজারি, জমি বিক্রয়, উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা হস্তান্তর কিংবা ব্যাংক ঋণ গ্রহণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
আগে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হলে ভূমি অফিসে সরাসরি উপস্থিত হতে হতো, যেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, সময় নষ্ট হওয়া এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে এখন ভূমি মালিকরা ঘরে বসেই, মাত্র কয়েকটি ধাপে, নিরাপদ ও স্বচ্ছ উপায়ে খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন।
অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শুধু সময় ও খরচ সাশ্রয়ই হচ্ছে না, বরং ভূমি সংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের সুবিধাও নিশ্চিত হচ্ছে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো ভূমি উন্নয়ন কর কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ভূমিকা এবং কীভাবে অনলাইনে সহজেই খাজনা পরিশোধ করা যায়।
| image source youtube |
ভূমি উন্নয়ন কর খাজনা কি
ভূমি উন্নয়ন কর হলো সরকার নির্ধারিত একটি বার্ষিক কর, যা ভূমির মালিককে তার মালিকানাধীন জমির জন্য পরিশোধ করতে হয়। এই কর পরিশোধের মাধ্যমে জমির বৈধতা নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, জমি বিক্রি বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাজে জটিলতা কমে যায়।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এই অধিদপ্তর
ভূমির খতিয়ান প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করে
জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে
ডিজিটাল ভূমি সেবা প্রদান করে
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের ব্যবস্থা করে
এই উদ্যোগের ফলে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে
ভূমির মালিকানা বজায় রাখতে এবং সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ রাখতে ভূমি উন্নয়ন কর, যা সাধারণভাবে খাজনা নামে পরিচিত, পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। আগে খাজনা দিতে ভূমি অফিসে যেতে হতো, কিন্তু এখন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুযোগ চালু করেছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ও নিরাপদে খাজনা পরিশোধ করা যাচ্ছে।
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুবিধা
অনলাইনে খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভূমি মালিকরা পাচ্ছেন নানা সুবিধা, যেমন
ঘরে বসেই খাজনা পরিশোধ
ভূমি অফিসে যাওয়ার ঝামেলা নেই
২৪/৭ সেবা গ্রহণের সুযোগ
ডিজিটাল রসিদ সংরক্ষণ সুবিধা
দুর্নীতি ও হয়রানি কমে যাওয়া
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য কী কী লাগবে
অনলাইনে খাজনা দিতে সাধারণত যেসব তথ্য প্রয়োজন—
জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম
খতিয়ান নম্বর
দাগ নম্বর
ভূমির পরিমাণ
জাতীয় পরিচয়পত্র (কিছু ক্ষেত্রে)
মোবাইল নম্বর
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার নিয়ম
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ধাপগুলো সাধারণত এমন
নির্ধারিত সরকারি ভূমি সেবা ওয়েবসাইটে প্রবেশ
ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অপশন নির্বাচন
জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ান তথ্য প্রদান
প্রদেয় খাজনার পরিমাণ যাচাই
মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট
সফল পরিশোধের পর ডিজিটাল রসিদ সংগ্রহ
অনলাইনে খাজনা পরিশোধ না করলে কী সমস্যা হতে পারে
নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করলে
ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে
নামজারি বা জমি বিক্রিতে বাধা আসতে পারে
সরকারি রেকর্ডে সমস্যা দেখা দিতে পারে
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি ফি বিকাশে পরিশোধ করার নিয়ম
বাংলাদেশে ভূমি মালিকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ও ই-নামজারি ফি সময়মতো পরিশোধ করা। আগে এসব ফি জমা দিতে ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ভোগান্তিপূর্ণ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে এখন ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে ভূমি সংক্রান্ত ফি পরিশোধের সুবিধা চালু করেছে, যেখানে বিকাশ একটি সহজ ও নিরাপদ পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
এখন ঘরে বসেই, যেকোনো সময় অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি ফি বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো বিকাশে ভূমি ফি দেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য, চার্জ, এবং সাধারণ প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর।
অনলাইনে বিকাশে ভূমি ফি পরিশোধের সুবিধা
বিকাশের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি ফি পরিশোধের ফলে
ভূমি অফিসে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই
২৪ ঘণ্টা, যেকোনো সময় পেমেন্ট করা যায়
নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেন নিশ্চিত হয়
ডিজিটাল রসিদ সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়
স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত হয়
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিকাশে ফি পরিশোধের নিয়ম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিকাশে ভূমি ফি দিতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন
প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
সার্ভিস তালিকা থেকে ভূমি উন্নয়ন কর অথবা ই-নামজারি ফি নির্বাচন করুন
জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন
পেমেন্ট মেথড হিসেবে বিকাশ নির্বাচন করুন
বিকাশ নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
বিকাশ অ্যাপ দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি ফি দেওয়ার নিয়ম
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করতে চাইলে
বিকাশ অ্যাপ খুলে Pay Bill অপশনে যান
সরকারি ফি ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন
ভূমি উন্নয়ন কর অথবা ই-নামজারি ফি সিলেক্ট করুন
প্রয়োজনীয় তথ্য ও পেমেন্ট টোকেন নম্বর দিন
বিকাশ পিন দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করুন
পেমেন্ট টোকেন নম্বর কী ও কীভাবে পাবেন
বিকাশে ভূমি কর পরিশোধের জন্য পেমেন্ট টোকেন নম্বর অপরিহার্য। এই টোকেন পাওয়া যায়—
ভূমি কর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার পর হোল্ডিং ডিটেইলস থেকে
অথবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করে
বিকাশে ভূমি ফি দেওয়ার চার্জ
বিকাশের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর বা ই-নামজারি ফি পরিশোধ করলে—
১% অথবা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে
লেনদেন সফল হয়েছে কিনা কীভাবে জানবেন
ফি পরিশোধ সফল হলে গ্রাহক
কনফার্মেশন এসএমএস
বিকাশ অ্যাপ নোটিফিকেশন
এবং ডিজিটাল পেমেন্ট রসিদ
পেয়ে যাবেন।
সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভূমি করের দাখিলা ওয়েবসাইটে আপডেট হয়ে যায়।
দাখিলা না পেলে করণীয়
৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাখিলা না পাওয়া গেলে
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন
অথবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করুন
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে পরিশোধ ব্যবস্থা ভূমি মালিকদের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর পরিচালিত এই সেবা ব্যবহার করে সহজেই খাজনা পরিশোধ করা যায়, যা সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমায়। তাই প্রত্যেক ভূমি মালিকের উচিত নিয়মিত ও সময়মতো অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা।