ফিতরা কত টাকা ২০২৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ফিতরা অর্থ কি
ফিতরা হলো রোজা রাখার শেষে দরিদ্রদের জন্য দেয়া বিশেষ দান। এটি মূলত একটি ছোট রকমের যাকাত, যা দরিদ্রদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে। ফিতরা শব্দটি এসেছে ‘ফিতর’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো “পরিশোধ” বা “পবিত্র করা”।
ফিতরা মূলত তিন রূপে দেওয়া যায়:
খাদ্যদ্রব্য হিসেবে: ধান, আটা, গম, খেজুর বা অন্য স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য
নগদ অর্থ হিসেবে: যেটি দরিদ্রদের সহজে ব্যবহারযোগ্য
ইসলামিক সংস্থা বা মসজিদের মাধ্যমে: যারা দরিদ্রদের পৌঁছে দিতে পারে
ফিতরা দেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু দান নয়, বরং রোজার পরিশোধ এবং মুসলিম সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণেও সাহায্য করে।
ফিতরা দেওয়ার নিয়ম
১. সময়সীমা
ফিতরা রমজানের শেষের দিন বা ঈদুল ফিতরের আগে দেওয়া উচিত।
রোজার সময় ফিতরা দিলে হয়, কিন্তু ঈদের নামাজের আগে দেওয়া সবচেয়ে শ্রেয়।
ঈদের নামাজের পর দেওয়া হলে ফিতরার ফরজতা পূর্ণ হয় না।
২. প্রাপ্যতা (যার জন্য ফরজ)
প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তি যিনি রোজা রেখেছেন, তাকে নিজের জন্য ফিতরা দিতে হবে।
শিশুরাও যাদের রোজা রয়েছে, তাদের জন্যও ফিতরা দেওয়া যেতে পারে।
৩. পরিমাণ নির্ধারণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা স্থানীয় মসজিদ প্রতি বছর নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ফিতরা নির্ধারণ করে।
২০২৬ সালে প্রতি ব্যক্তি ফিতরা নির্ধারিত হয়েছে ৭০ টাকা।
৪. দেওয়ার ধরন
খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে: ধান, গম, আটা, খেজুর বা অন্যান্য স্থানীয় খাদ্য
নগদ অর্থের মাধ্যমে: যা দরিদ্ররা সহজে ব্যবহার করতে পারে
সংস্থা বা মসজিদের মাধ্যমে: যারা দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে
৫. প্রাপক
ফিতরা শুধুমাত্র দরিদ্র ও অভাবী মুসলিমদের মধ্যে দেওয়া হয়।
এগুলি হতে পারে: দরিদ্র মানুষ, বিধবা নারী, এতিম শিশু, বা অন্যান্য অসহায় মুসলিম।
পরিবারের বাইরে থাকা দরিদ্রদেরও দেওয়া যেতে পারে।
৬. উদ্দেশ্য ও নীতিমালা
ফিতরা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রদের সাহায্য করা এবং রোজার পূর্ণতা নিশ্চিত করা।
প্রদানের সময় সতর্ক থাকুন যাতে দরিদ্ররা সহজে এটি গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে।
ফিতরা দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়।
৭. বিশেষ টিপস
যদি নগদ অর্থ দেওয়া হয়, নিশ্চিত করুন এটি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।
ফিতরা সরাসরি দরিদ্রদের হাতে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম, তবে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য।
ফিতরা প্রদানের সময় খেয়াল রাখুন যেন এটি ব্যক্তিগত সঙ্গীত বা অহঙ্কারমূলক কাজের জন্য না হয়।
ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে
শরিয়তের অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া যেতে পারে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের:
দরিদ্র ও অভাবী মানুষ: যারা খাদ্য বা অর্থের অভাবে থাকেন
এতিম এবং বিধবা নারী: যারা পরিবারের সহযোগিতা পায় না
মসজিদ ও ইসলামিক সংস্থা: যারা দরিদ্রদের বিতরণ করে
পরিবারের বাইরে থাকা অসহায়: যারা আর্থিকভাবে অসুবিধায় থাকেন
গুরুত্বপূর্ণ: ফিতরা শুধু মুসলিমদের মধ্যে দেওয়া হয়।
এবারের ফিতরা কত টাকা ২০২৬
২০২৬ সালের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুযায়ী ফিতরা নির্ধারিত হয়েছে:
প্রতি ব্যক্তি: ৭০ টাকা
উদাহরণ: যদি পরিবারের ৫ জন সদস্য থাকে, মোট ফিতরা হবে ৩৫০ টাকা।
নির্দেশনা:
নগদ অর্থ দিয়ে ফিতরা দেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।
ফিতরা দেওয়ার সময় তা নিশ্চিত করুন যে তা দরিদ্রদের কাছে পৌঁছেছে।
ফিতরা শুধু দানের কাজ নয়, এটি রোজার পূর্ণতা নিশ্চিত করে।
ফিতরা দেওয়ার গুরুত্ব
ফিতরা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা শুধু দরিদ্রদের সাহায্য করি না, বরং সমাজে সৌহার্দ্য ও সমতার পরিবেশ সৃষ্টি করি। ফিতরা রোজার পূর্ণতা, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পার্থিব ও আধ্যাত্মিক উপকার নিশ্চিত করে। এটি রোজা রাখার পরিশোধের প্রতীক এবং মুসলিম সমাজে সহযোগিতার বার্তা বহন করে।
ফিতরা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ দান। ২০২৬ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিমকে যথাযথ পরিমাণে ফিতরা প্রদান করা উচিত। এটি দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করে, রোজার পূর্ণতা নিশ্চিত করে এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। ফিতরা সময়মতো এবং সঠিকভাবে দেওয়া নিশ্চিত করুন।
