গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে কি হয়

গর্ভাবস্থা একটি সংবেদনশীল সময়, যেখানে মায়ের পাশাপাশি অনাগত শিশুর সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট টিকা মা ও শিশুকে মারাত্মক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তার মধ্যে অন্যতম হলো টিটি টিকা, যা টিটেনাস প্রতিরোধে কার্যকর। অনেকেই প্রশ্ন করেন গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে কি হয়? এটি কি খুব জরুরি? এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানবো টিটির গুরুত্ব, ডোজ, সময় এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা কখন দিতে হবে, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা দেয়ার নিয়ম, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা কত মাসে নিতে হয়, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা দেওয়ার, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা কখন দিতে হয়, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা দেওয়া যাবে, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে কি হয়, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা দেওয়ার নিয়ম, গর্ভাবস্হায় টিটি টিকা, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকার ডোজ কয়টি, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা কেন এবং কখন দেওয়া হয়, গর্ভবতী মায়ের টিটি টিকা, গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে কি কোন সমস্যা হবে?

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে কি হয়

টিটি টিকা মূলত টিটেনাস নামক প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। টিটেনাস ব্যাকটেরিয়া মাটিতে ও ধুলায় থাকে এবং প্রসবের সময় সংক্রমণ হলে মা ও নবজাতক উভয়ের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে

  • মায়ের টিটেনাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে

  • নবজাতক টিটেনাসে আক্রান্ত হতে পারে

  • গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়

বিশ্বব্যাপী টিকাদানের ফলে নবজাতক টিটেনাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাই চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা কখন দিতে হয়

সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (৪–৬ মাসের মধ্যে) টিটি টিকা শুরু করা হয়।

যদি আগে কখনও টিটি টিকা না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে—

  • প্রথম ডোজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব

  • দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজের কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ পরে

যদি পূর্বে সম্পূর্ণ টিকাদান সম্পন্ন থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে একটি বুস্টার ডোজই যথেষ্ট হতে পারে। সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা দেওয়ার নিয়ম

  • টিকা বাহুর উপরের অংশে পেশিতে দেওয়া হয়

  • নির্ধারিত সময়ে ডোজ সম্পন্ন করতে হয়

  • সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়

  • টিকা নেওয়ার পর অন্তত ১৫–২০ মিনিট পর্যবেক্ষণে থাকা ভালো

টিকা নেওয়ার সময় পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

টিটি টিকা সাধারণত নিরাপদ। তবে হালকা কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—

  • ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা বা ফোলা

  • হালকা জ্বর

  • শরীর ব্যথা

  • ক্লান্তি

এই উপসর্গগুলো সাধারণত ১–২ দিনের মধ্যে সেরে যায়। গুরুতর অ্যালার্জি খুবই বিরল। তীব্র শ্বাসকষ্ট, বেশি ফোলা বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকার ডোজ কয়টি

সাধারণত মোট ২ ডোজ প্রয়োজন, যদি পূর্বে টিকা না নেওয়া থাকে।

  • প্রথম ডোজ

  • দ্বিতীয় ডোজ (৪ সপ্তাহ পর)

আগের টিকাদান ইতিহাস থাকলে একটি বুস্টার ডোজই যথেষ্ট হতে পারে। একাধিক গর্ভধারণের ক্ষেত্রে পূর্বের ডোজের সময় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

মা ও শিশুর সুরক্ষায় টিটির গুরুত্ব

টিটি টিকা মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌঁছে যায়। ফলে জন্মের পরও নবজাতক কিছু সময় সুরক্ষিত থাকে। এই কারণে গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।

গর্ভাবস্থায় টিটি টিকা না দিলে মা ও নবজাতক উভয়েই টিটেনাসের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক টিকা, যা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও এর উপকারিতা অনেক বেশি। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি টিটি টিকা সম্পন্ন করা উচিত।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url