ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন কত | ইবতেদায়ী শিক্ষক নিবন্ধন যোগ্যতা

বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইবতেদায়ী স্তরটি প্রাথমিক পর্যায়ের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কম বেতন ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কাজ করে আসছেন।

অনেকেই জানতে চান ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন কত, তারা কি এমপিওভুক্ত, এবং ভবিষ্যতে বেতন বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি না এই আর্টিকেলে আমরা এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।

ইবতেদায়ী মাদরাসা কী

ইবতেদায়ী মাদরাসা হলো প্রাথমিক স্তরের মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে সাধারণত ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। এটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমানের শিক্ষা হলেও ধর্মীয় শিক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইবতেদায়ী শিক্ষক হওয়ার নিবন্ধন যোগ্যতা

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • স্বীকৃত মাদরাসা থেকে ইবতেদায়ী পাশ

  • কিছু ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পাশ শিক্ষার্থীও আবেদন করতে পারেন।

  • উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থী (HSC বা স্নাতক) থাকলে অগ্রাধিকার।

২. ধর্মীয় যোগ্যতা

  • কুরআন ও ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে।

  • শিক্ষার্থীদের ইসলামিক শিক্ষা দিতে সক্ষম হতে হবে।

৩. শারীরিক ও নৈতিক যোগ্যতা

  • শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম হতে হবে।

  • সমাজে গ্রহণযোগ্য চরিত্রসম্পন্ন হতে হবে।

৪. অভিজ্ঞতা (যদি থাকে)

  • পূর্বে মাদরাসা বা প্রাথমিক শিক্ষায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা।

৫. নিয়োগ প্রক্রিয়া

  • সাধারণত লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক সাক্ষাৎকার (ভাইভা)

  • স্থানীয় শিক্ষা অফিস বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের কাজ কি

  • শিক্ষার্থীদের কুরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান

  • বাংলা, গণিত ও সাধারণ বিষয় পড়ানো

  • শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান

  • পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পরিচালনা

  • প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজে সহায়তা

ইবতেদায়ী শিক্ষক কি সরকারি এমপিওভুক্ত

দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ধাপে ধাপে অনেক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখনও সব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসেনি।

যদি পূর্ণাঙ্গ এমপিওভুক্ত হয়, তাহলে শিক্ষকরা

✔ সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন
✔ বাড়িভাড়া ভাতা
✔ চিকিৎসা ভাতা
✔ উৎসব ভাতা
✔ পেনশন সুবিধা

পেতে পারেন।

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন কত

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে সম্মানীভিত্তিক ছিল। অর্থাৎ তারা জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় নিয়মিত সরকারি বেতন পান না (অনেক ক্ষেত্রে এখনও পুরোপুরি এমপিওভুক্ত নয়)।

পূর্বের সম্মানী (প্রায় হিসাব):

  • 🔹 প্রধান শিক্ষক: প্রায় ২,৫০০ টাকা

  • 🔹 সহকারী শিক্ষক: প্রায় ২,৩০০ টাকা

সাম্প্রতিক বৃদ্ধি অনুযায়ী:

  • 🔹 প্রধান শিক্ষক: প্রায় ৩,৫০০ টাকা

  • 🔹 সহকারী শিক্ষক: প্রায় ৩,৩০০ টাকা

(এলাকা ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে)

বর্তমান বেতন কাঠামো কম কেন

ইবতেদায়ী মাদরাসার বেশিরভাগই দীর্ঘদিন অনুদানভিত্তিক ছিল। পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাদের সম্মানী খুবই সীমিত ছিল। তবে সরকার ধীরে ধীরে এই খাতে সংস্কার আনছে।

ভবিষ্যতে বেতন বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি

সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে যাতে সব ইবতেদায়ী শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন পান। যদি জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে তাদের বেতন ১৩তম বা ১৪তম গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে (নীতিনির্ধারণের উপর নির্ভরশীল)।

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন বর্তমানে সম্মানীভিত্তিক, যা প্রায় ৩,৩০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সরকার ধীরে ধীরে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। যারা ইবতেদায়ী শিক্ষক হতে চান, তাদের উচিত সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নীতিমালা অনুসরণ করা।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url