খরগোশ কামড় দিলে কি হয় | লক্ষণ ঝুঁকি ও করণীয়
খরগোশ সাধারণত শান্ত স্বভাবের প্রাণী। তবে ভয় পেলে, ব্যথা পেলে বা আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে খরগোশ কামড় দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন খরগোশের কামড় তেমন ক্ষতিকর নয়, কিন্তু বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সংক্রমণ বা জটিলতার কারণ হতে পারে। এই আর্টিকেলে জানুন খরগোশ কামড় দিলে কি হয়, কী কী ঝুঁকি আছে এবং কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
খরগোশ কামড় দিলে কি হয়
১. রক্তপাত ও ব্যথা
খরগোশের দাঁত ধারালো। কামড় গভীর হলে ত্বক কেটে রক্তপাত ও তীব্র ব্যথা হতে পারে।
২. সংক্রমণ (Infection)
খরগোশের মুখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। কামড়ের ক্ষত পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ হতে পারে। যেমন:
ক্ষতস্থানে ফোলা
লালচে ভাব
পুঁজ হওয়া
জ্বর
৩. র্যাবিসের ঝুঁকি
সাধারণত গৃহপালিত খরগোশের মাধ্যমে র্যাবিস ছড়ানোর ঘটনা খুবই বিরল। তবে যদি বন্য খরগোশ কামড় দেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। র্যাবিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন Rabies বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা।
৪. টিটেনাসের ঝুঁকি
যদি আপনার টিটেনাস টিকা আপডেট না থাকে, তাহলে কামড়ের মাধ্যমে টিটেনাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
খরগোশ কামড় দিলে করণীয়
✔️ ধাপ ১: দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করুন
পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ৫ মিনিট ধুয়ে নিন
জীবাণুনাশক (যেমন পভিডন আয়োডিন) ব্যবহার করুন
✔️ ধাপ ২: রক্তপাত বন্ধ করুন
পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চাপ দিন
✔️ ধাপ ৩: প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে যান
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসা নিন—
কামড় গভীর হলে
রক্তপাত বন্ধ না হলে
ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে
বন্য খরগোশ কামড় দিলে
কখন র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োজন
যদি সন্দেহ হয় যে খরগোশটি অসুস্থ বা বন্য ছিল, তাহলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
খরগোশ কেন কামড়ায়
ভয় পেলে
অপরিচিত ব্যক্তি ধরতে গেলে
ব্যথা বা অসুস্থতায়
খাবার রক্ষা করতে
খরগোশের কামড় এড়ানোর উপায়
খরগোশকে হঠাৎ করে ধরবেন না
শিশুদের একা খরগোশের কাছে যেতে দেবেন না
অসুস্থ খরগোশ থেকে দূরে থাকুন
নিয়মিত পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে পোষা খরগোশের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
খরগোশ কামড় দিলে সাধারণত বড় ধরনের বিপদ হয় না, তবে সংক্রমণ বা বিরল ক্ষেত্রে র্যাবিসের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই অবহেলা না করে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
