হজের সময় দম দিতে হয় কেন

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। প্রতি বছর বিশ্বের লাখো মুসলমান সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে এই মহান ইবাদত পালন করেন। হজের বিভিন্ন নিয়ম ও বিধান রয়েছে, যার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দম দেওয়া। অনেকেই জানতে চান— হজের সময় দম দিতে হয় কেন?

আসলে হজের কিছু নিয়ম ভঙ্গ হলে বা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানির মতো একটি পশু জবাই করতে হয়, এটাকেই ইসলামী পরিভাষায় দম বলা হয়। নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

হজের সময় দম দিতে হয় কেন

দম কি

ইসলামী শরিয়তের ভাষায় দম বলতে বোঝায়—
হজ বা ওমরাহ পালনের সময় কোনো নির্দিষ্ট বিধান ভঙ্গ হলে একটি পশু (সাধারণত ছাগল বা ভেড়া) কোরবানি করা

এই পশু সাধারণত মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে জবাই করতে হয় এবং এর মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

হজের সময় দম দিতে হয় কেন

হজের সময় দম দেওয়ার প্রধান কারণ হলো হজের কোনো নিয়ম ভঙ্গ হওয়া বা নির্দিষ্ট বিধান পূরণ করা

মূলত তিনটি কারণে দম দিতে হয়

হজের কোনো ওয়াজিব কাজ ছুটে গেলে

হজের কিছু কাজ ওয়াজিব। যদি ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো ছুটে যায়, তাহলে দম দিতে হয়।

উদাহরণ:

  • মুজদালিফায় রাত যাপন না করা

  • জামরাতে পাথর নিক্ষেপ না করা

  • সাফা-মারওয়া সাঈ সম্পূর্ণ না করা

ইহরামের নিয়ম ভঙ্গ করলে

হজ বা ওমরাহ করার সময় ইহরাম অবস্থায় কিছু কাজ নিষিদ্ধ। যদি কেউ এগুলো করে ফেলে তাহলে দম দিতে হতে পারে।

যেমন:

  • চুল বা নখ কাটা

  • সুগন্ধি ব্যবহার করা

  • শিকার করা

  • স্বামী-স্ত্রীর সহবাস

তামাত্তু বা কিরান হজ করলে

যারা হজে তামাত্তু বা হজে কিরান করেন, তাদের জন্য দম দেওয়া ওয়াজিব

কারণ:
তারা একই সফরে ওমরাহ এবং হজ উভয়ই সম্পন্ন করেন, তাই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে একটি পশু কোরবানি করতে হয়।

দমের পশু কেমন হতে হবে

দমের পশু সাধারণত কোরবানির পশুর মতোই হতে হয়।

যেমন:

  • ছাগল

  • ভেড়া

  • গরু (কিছু ক্ষেত্রে ভাগে)

  • উট

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি ছাগল বা ভেড়া যথেষ্ট

দম কোথায় দিতে হয়

দমের পশু অবশ্যই মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে জবাই করতে হয়
বর্তমানে সৌদি সরকার নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কোরবানি সম্পন্ন করে থাকে।

দম না দিলে কি হয়

যদি কারো উপর দম ওয়াজিব হয় এবং তিনি তা না দেন, তাহলে তার হজ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হতে পারেন। তাই হজের বিধান ভালোভাবে জানা এবং সঠিকভাবে পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হজের সময় দম দেওয়া ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। মূলত হজের কোনো নিয়ম ভঙ্গ হলে বা তামাত্তু ও কিরান হজ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দম দিতে হয়। এটি এক ধরনের কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত, যা মুসলমানকে তার ভুল সংশোধন করার সুযোগ দেয়।

তাই হজে যাওয়ার আগে এর নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা এবং আলেমদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url