এসজিপিটি টেস্ট কি | এসজিপিটি বাড়ে কেন ও কমানোর উপায়
আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে লিভার অন্যতম। লিভারের কার্যকারিতা ঠিক আছে কিনা তা জানার জন্য কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো এসজিপিটি (SGPT) টেস্ট। অনেক সময় রিপোর্টে এসজিপিটি বেশি দেখালে মানুষ চিন্তায় পড়ে যায়। আসলে এটি কেন বাড়ে, কী সমস্যা তৈরি করে এবং কীভাবে কমানো যায় এই বিষয়গুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এসজিপিটি টেস্ট কি
এসজিপিটি (SGPT) এর পূর্ণ নাম হলো Serum Glutamic Pyruvic Transaminase, যাকে বর্তমানে ALT (Alanine Aminotransferase) বলা হয়।
এটি একটি এনজাইম যা মূলত লিভারে থাকে। যখন লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন এই এনজাইম রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্ত পরীক্ষায় এর মাত্রা বেড়ে যায়।
👉 তাই এসজিপিটি টেস্ট মূলত লিভারের স্বাস্থ্যের অবস্থা বোঝার জন্য করা হয়।
এসজিপিটি স্বাভাবিক মাত্রা কত
সাধারণত
পুরুষ: 10–40 U/L
নারী: 7–35 U/L
তবে ল্যাবভেদে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
এসজিপিটি বাড়ে কেন
এসজিপিটি বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। নিচে প্রধান কারণগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
১. লিভারের রোগ
ফ্যাটি লিভার
হেপাটাইটিস (ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ)
লিভার সিরোসিস
👉 এসব রোগে লিভার কোষ নষ্ট হওয়ার কারণে এসজিপিটি বেড়ে যায়।
২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত তেল-চর্বি, ফাস্টফুড এবং জাঙ্ক ফুড খেলে লিভারে ফ্যাট জমে যায়, যা SGPT বাড়ায়।
৩. অ্যালকোহল সেবন
অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষ ধ্বংস করে এবং SGPT দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
৪. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধ যেমন
প্যারাসিটামল বেশি খাওয়া
অ্যান্টিবায়োটিক
স্টেরয়েড
👉 এগুলো লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে SGPT বাড়াতে পারে।
৫. স্থূলতা (Obesity)
ওজন বেশি হলে ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা SGPT বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৬. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে লিভারের সমস্যা বেশি দেখা যায়, ফলে SGPT বেড়ে যেতে পারে।
৭. সংক্রমণ ও ভাইরাস
হেপাটাইটিস B ও C ভাইরাস লিভারে সংক্রমণ ঘটিয়ে SGPT বাড়ায়।
এসজিপিটি বেশি হলে কী সমস্যা হয়
এসজিপিটি বেশি হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—
দুর্বলতা ও ক্লান্তি
বমি বমি ভাব
ডান পাশে পেট ব্যথা
চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া (জন্ডিস)
ক্ষুধামন্দা
👉 তবে অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই SGPT বেড়ে যেতে পারে।
এসজিপিটি কমানোর উপায়
এসজিপিটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
সবজি ও ফল বেশি খান
তেল-চর্বি কমান
ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন
নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করলে লিভার সুস্থ থাকে।
অ্যালকোহল পরিহার
মদ্যপান সম্পূর্ণ বন্ধ করলে দ্রুত SGPT কমতে সাহায্য করে।
ওষুধ সতর্কভাবে ব্যবহার
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
ওজন কমালে ফ্যাটি লিভার কমে এবং SGPT স্বাভাবিক হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান
পানি শরীরের টক্সিন বের করে লিভারকে সুস্থ রাখে।
প্রাকৃতিক উপায়
লেবুর পানি
সবুজ চা
হলুদ
👉 এগুলো লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
SGPT স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে
দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকলে
জন্ডিস বা পেট ব্যথা হলে
👉 দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসজিপিটি টেস্ট লিভারের স্বাস্থ্য যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি বেড়ে গেলে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা এবং সঠিক জীবনযাপন অনুসরণ করা জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সচেতন জীবনধারা অনুসরণ করলে সহজেই SGPT নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
