আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষার মধ্যে পার্থক্য কি
ভাষা মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তবে একটি ভাষার মাঝেই দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ—যেমন আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষা। কখনো কথোপকথনে আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করা হয়, আবার শিক্ষা, গণমাধ্যম বা আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হয় প্রমিত ভাষা। অনেকেই এ দুটির পার্থক্য জানতে চান। চলুন সহজভাবে জানি
আঞ্চলিক ভাষা কি
আঞ্চলিক ভাষা হলো একটি ভাষার এমন রূপ, যা ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে স্থানীয় উচ্চারণ, শব্দ, বাক্যগঠন ও উপভাষার প্রভাব থাকে।
আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্য
-
নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ ব্যবহার করে
-
উচ্চারণে আঞ্চলিকতা স্পষ্ট থাকে
-
শব্দভাণ্ডারে স্থানীয় শব্দ যোগ হয়
-
আনুষ্ঠানিক কাজে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না
-
কথ্য ভাষার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে
আঞ্চলিক ভাষার উদাহরণ
চট্টগ্রামি, সিলেটি, বরিশাল অঞ্চল, ময়মনসিংহ অঞ্চলের কথ্য ভাষা ইত্যাদি।
প্রমিত ভাষা কি
প্রমিত ভাষা হলো ভাষার এমন রূপ, যা নির্দিষ্ট নিয়ম, ব্যাকরণ ও শুদ্ধতার ভিত্তিতে গঠিত। শিক্ষা, সাহিত্য, সংবাদ, প্রশাসন ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশে প্রমিত ভাষা ব্যবহৃত হয়।
প্রমিত ভাষার বৈশিষ্ট্য
-
ব্যাকরণ ও শুদ্ধতার নিয়ম মেনে চলে
-
সারা দেশেই সমানভাবে বোঝা যায়
-
আনুষ্ঠানিক, লেখ্য ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা হয়
-
উচ্চারণে আঞ্চলিকতার প্রভাব থাকে না
-
সর্বজনগ্রাহ্য ও মানসম্পন্ন
প্রমিত ভাষার উদাহরণ
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী লিখিত ও শুদ্ধ ভাষা যেমন সংবাদপত্র, বই, বিদ্যালয়ের ভাষা।আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষার মধ্যে পার্থক্য কি
আঞ্চলিক ভাষা একটি এলাকার কথ্য ভাষা, যা স্থানীয় শব্দ ও উচ্চারণে গঠিত। অন্যদিকে প্রমিত ভাষা হলো শুদ্ধ ও নিয়মমাফিক ভাষা, যা সারা দেশেই একভাবে ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্য। প্রমিত ভাষা আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হয়, আর আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার হয় দৈনন্দিন কথোপকথন ও স্থানীয় যোগাযোগে।
আঞ্চলিক ভাষা একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও ঐতিহ্য বহন করে আর প্রমিত ভাষা দেশের সার্বজনীন যোগাযোগ ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ একটি মানুষের আবেগ-অনুভূতির ভাষা, অন্যটি আনুষ্ঠানিকতা ও শুদ্ধতার প্রতীক।