আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য কি
অর্থনীতিতে শ্রমিকের মজুরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু মজুরি বলতে আমরা সাধারণত যে পরিমাণ টাকার কথা বুঝি, তার চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রমিক আসলে কী পরিমাণ জিনিসপত্র বা সুবিধা ভোগ করতে পারে। এ থেকে আসে আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরি দুটি ভিন্ন ধারণা। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।
আর্থিক মজুরি কি
আর্থিক মজুরি হলো শ্রমিক তার কাজের বিনিময়ে যে টাকা বা নগদ আয় পায়, সেই মোট অর্থকে বোঝায়। এটি সরাসরি টাকার হিসাব।
আর্থিক মজুরির বৈশিষ্ট্য
-
এটি কেবল টাকার পরিমাণ
-
বাজারমূল্যের পরিবর্তনে এর মান কম-বেশি হতে পারে
-
বৃদ্ধি পেলেও বাস্তবে জীবনযাত্রার মান সবসময় বাড়ে না
-
কর্মী প্রতি মাস বা দিনে যে বেতন পান, সেটিই আর্থিক মজুরি
আর্থিক মজুরির উদাহরণ
একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৫০০ টাকা বেতন পান এটাই তার আর্থিক মজুরি।প্রকৃত মজুরি কি
প্রকৃত মজুরি হলো শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দিয়ে আসলে কতটুকু পণ্য ও সেবা কিনতে পারে, অর্থাৎ তার ক্রয়ক্ষমতা। মূল্যস্ফীতি বা বাজারদর বাড়লে প্রকৃত মজুরি কমে যায়।
প্রকৃত মজুরির বৈশিষ্ট্য
-
এটি শ্রমিকের আসল ভোগক্ষমতা
-
মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়
-
জীবনযাত্রার মান নির্ধারণে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
-
একই বেতনে দাম বাড়লে প্রকৃত মজুরি কমে যায়
প্রকৃত মজুরি উদাহরণ
একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৫০০ টাকা পান, কিন্তু বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে সেই টাকায় আগের মতো জিনিস কেনা যায় না এ অবস্থায় তার প্রকৃত মজুরি কমে গেছে।আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে পার্থক্য কি
আর্থিক মজুরি হলো শ্রমিকের হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ, আর প্রকৃত মজুরি হলো সেই টাকায় শ্রমিক বাস্তবে কতটুকু জিনিস কিনতে পারে। অর্থাৎ আর্থিক মজুরি টাকার হিসাব, আর প্রকৃত মজুরি মূল্যস্ফীতি অনুসারে ভোগক্ষমতার হিসাব। বাজারদর বাড়লে প্রকৃত মজুরি কমে যায়, যদিও আর্থিক মজুরি একই থাকে।
শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান আসলে নির্ভর করে প্রকৃত মজুরির উপর, কারণ টাকার পরিমাণ নয়—টাকা দিয়ে কী পাওয়া যাবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্রমনীতিতে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।