আমিষ ও প্রোটিনের মধ্যে পার্থক্য কি
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে “আমিষ” ও “প্রোটিন” শব্দ দুটি খুবই পরিচিত। অনেকেই মনে করেন আমিষ মানেই প্রোটিন, আবার কেউ মনে করেন প্রোটিন মানেই আমিষ। কিন্তু বাস্তবে এ দুটি শব্দের অর্থ ও ব্যবহার ভিন্ন। এই আর্টিকেলে আমরা আমিষ ও প্রোটিনের মধ্যে পার্থক্য সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে জেনে নেব।
আমিষ কী
আমিষ হলো প্রাণীজাত উৎস থেকে পাওয়া খাদ্যকে বোঝায়। অর্থাৎ যেসব খাবার প্রাণী, মাছ, ডিম বা দুধজাত পণ্য থেকে আসে সেগুলোকে সম্মিলিতভাবে আমিষ বলা হয়।
উদাহরণ
-
মাংস
-
মাছ
-
ডিম
-
দুধ
-
ঘি, মাখন
সংক্ষেপে:
আমিষ মানে প্রাণীজ খাদ্য।
প্রোটিন কী
প্রোটিন হলো একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান, যা দেহ গঠন, কোষ মেরামত, পেশী বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি।
বিশেষ বিষয় হলো
প্রোটিন প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ—দুই উৎস থেকেই পাওয়া যায়।
উদাহরণ:
-
ডাল
-
ছোলা
-
সয়াবিন
-
বাদাম
-
দুধ
-
ডিম
-
মাংস
-
মাছ
সংক্ষেপে
প্রোটিন হলো পুষ্টিগুণ, কোনো খাবারের শ্রেণি নয়।
আমিষ ও প্রোটিনের মধ্যে পার্থক্য কি
১. ধারণার ভিন্নতা
-
আমিষ: খাবারের ধরন বোঝায় (প্রাণীজ খাদ্য)।
-
প্রোটিন: একটি পুষ্টি উপাদান বোঝায়।
২. উৎস
-
আমিষ: শুধুই প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া যায়।
-
প্রোটিন: প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ—দুই উৎসেই পাওয়া যায়।
৩. কাজ
-
আমিষ: খাদ্যের শ্রেণিবিভাগ।
-
প্রোটিন: দেহ গঠন, পেশী বৃদ্ধি, টিস্যু মেরামতসহ নানা শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করে।
৪. সম্পর্ক
-
সব আমিষেই প্রোটিন থাকে।
-
কিন্তু সব প্রোটিনযুক্ত খাবার আমিষ নয়।
যেমন—ডাল ও সয়াবিনে প্রোটিন আছে, কিন্তু এগুলো আমিষ নয়।
সহজভাবে বুঝলে
আমিষ = প্রাণীজ খাদ্য
প্রোটিন = দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
আমিষ ও প্রোটিন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অনেকেই দুটিকে একই মনে করেন। কিন্তু আসলে আমিষ খাবারের একটি শ্রেণি, আর প্রোটিন দেহের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। অর্থাৎ, আমিষ প্রোটিনযুক্ত হতে পারে, কিন্তু প্রোটিন মানেই আমিষ নয়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাকে দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করেছে।