পৃথিবীর সবচেয়ে ঈমানী শক্তি বেশি ছিল কোন মহিলার
ঈমান হলো একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্পদ, ক্ষমতা বা বাহ্যিক শক্তি নয়—বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস, ধৈর্য ও ত্যাগই প্রকৃত ঈমানী শক্তির পরিচয়। মানব ইতিহাসে এমন কিছু নারী রয়েছেন, যাঁরা কঠিনতম পরীক্ষার মুখেও ঈমানের পাহাড়সম দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এই প্রবন্ধে আমরা কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানবো পৃথিবীর সবচেয়ে ঈমানী শক্তি বেশি ছিল কোন মহিলার এবং কেন তাঁদের ঈমান আজও মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণা।
ঈমানী শক্তি বলতে কী বোঝায়
ঈমানী শক্তি বলতে বোঝায়
আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস
কঠিন বিপদে ধৈর্য ধারণ
সমাজ ও পরিস্থিতির বিরুদ্ধেও সত্যের ওপর অটল থাকা
আল্লাহর আদেশের সামনে নিজ ইচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়া
এই গুণগুলো যাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রকাশ পেয়েছে, তাঁরাই প্রকৃত ঈমানদার।
হযরত মারিয়াম (আ.) সর্বোচ্চ ঈমানী শক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঈমানী শক্তির অধিকারী নারী হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হলেন হযরত মারিয়াম (আ.)।
🔹 আল্লাহর বিশেষ নির্বাচিত বান্দী
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“হে মারিয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে নির্বাচিত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং সমগ্র বিশ্বের নারীদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন।”
(সূরা আলে ইমরান: ৪২)
🔹 বিনা পিতায় সন্তান ধারণের কঠিন পরীক্ষা
বিনা পিতায় হযরত ঈসা (আ.)-কে গর্ভে ধারণ করা ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। সমাজের অপবাদ, প্রশ্নবাণ ও মানসিক যন্ত্রণা—সবকিছুর মুখেও তিনি আল্লাহর ফয়সালার ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন।
🔹 চরম ধৈর্য ও আত্মসমর্পণ
তিনি একা নির্জনে সন্তান প্রসব করেছেন, তবুও আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করেননি। তাঁর এই ধৈর্যই ঈমানী শক্তির সর্বোচ্চ নিদর্শন।
🔹 কুরআনে নামসহ উল্লেখ
হযরত মারিয়াম (আ.)-এর নাম কুরআনে সরাসরি বহুবার এসেছে এবং একটি সম্পূর্ণ সূরা (সূরা মারিয়াম) তাঁর নামে অবতীর্ণ—যা তাঁর মর্যাদার অনন্য প্রমাণ।
হযরত আসিয়া (আ.) জালিম ফেরাউনের ঘরে ঈমানের আলো
হযরত আসিয়া (আ.) ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী—যে ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করেছিল।
🔹 চরম নির্যাতনের মাঝেও ঈমান
স্বামীর অত্যাচার, নির্যাতন ও মৃত্যুভয় সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর ওপর ঈমান ত্যাগ করেননি।
🔹 জান্নাতের দোয়া
কুরআনে তাঁর দোয়া উল্লেখ আছে—
“হে আমার রব! আমার জন্য জান্নাতে আপনার কাছে একটি ঘর নির্মাণ করুন।”
(সূরা তাহরীম: ১১)
এই দোয়া প্রমাণ করে—দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেও তিনি আখিরাতকেই বেছে নিয়েছিলেন।
হযরত খাদিজা (রা.) ইসলামের প্রথম ঈমানদার নারী
হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী মুসলমান।
🔹 প্রথম বিশ্বাস ও সমর্থন
নবুওয়াতের শুরুতে যখন পুরো সমাজ রাসূল (সা.)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন তিনিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করেন।
🔹 সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ
নিজের সমস্ত সম্পদ ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন এবং সামাজিক বয়কটের কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করেছেন।
🔹 রাসূল (সা.)-এর প্রশংসা
রাসূল (সা.) বলেছেন—
“খাদিজা আমাকে তখন বিশ্বাস করেছেন, যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছে।”
হযরত ফাতিমা (রা.) লজ্জা, তাকওয়া ও ত্যাগের প্রতীক
হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন রাসূল (সা.)-এর কন্যা।
🔹 দারিদ্র্যেও সন্তুষ্টি
অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন।
🔹 পিতার প্রতি ভালোবাসা ও ঈমান
তিনি রাসূল (সা.)-এর কষ্টে কষ্ট পেয়েছেন এবং তাঁর আদর্শ আঁকড়ে ধরেছেন।
🔹 জান্নাতের নারীদের নেত্রী
হাদিসে এসেছে—তিনি জান্নাতের নারীদের সর্দার।
তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে ঈমানী শক্তি বেশি ছিল কার
ইসলামী আলেমদের অধিকাংশের মতে—
👉 হযরত মারিয়াম (আ.) ছিলেন ঈমানী শক্তির দিক থেকে সর্বোচ্চ অবস্থানে।
কারণ
সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক নির্বাচিত
কুরআনে নামসহ প্রশংসিত
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য দৃষ্টান্ত
তবে একই সঙ্গে হযরত আসিয়া (আ.), হযরত খাদিজা (রা.) ও হযরত ফাতিমা (রা.)—তাঁরাও ঈমানী শক্তির উজ্জ্বল নক্ষত্র।
ঈমানী শক্তি নারী বা পুরুষের বিষয় নয়—বরং আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের বিষয়। হযরত মারিয়াম (আ.) প্রমাণ করেছেন, একজন নারীও ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঈমানী শক্তির অধিকারী হতে পারেন। তাঁদের জীবন আমাদের শেখায়—পরীক্ষা যত বড়ই হোক, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে বিজয় অনিবার্য।