অধিকার কি | অধিকার কাকে বলে | অধিকার বলতে কি বুঝায়

অধিকার হলো মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও সুযোগের প্রতীক, যা প্রতিটি ব্যক্তির জীবনের গুণগত মান নিশ্চিত করে। সমাজে শান্তি, সমতা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিকার না থাকলে মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে, মত প্রকাশ করতে বা নিজের স্বপ্ন পূরণে অক্ষম হয়।

অধিকার মানুষের জীবনকে পূর্ণতা দেয় এবং তাকে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে সাহায্য করে। যখন মানুষ তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তখন সে নিজের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয় এবং অন্যের অধিকারও সম্মান করে। অধিকার থাকলে সমাজে বৈষম্য কমে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হয় এবং সামগ্রিক উন্নতি ঘটে। এই আর্টিকেলে আমরা অধিকার কী, তার প্রকারভেদ, এবং কেন এটি আমাদের জীবনে অপরিহার্য তা বিস্তারিত আলোচনা করব।

অধিকার কি, অধিকার কাকে বলে, অধিকার বলতে কি বুঝায়

অধিকার কি

অধিকার হলো সেই বিশেষ সুযোগ, স্বাধীনতা বা ক্ষমতা যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনি, সামাজিক বা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে লাভ করে থাকে। এটি মানুষকে তাঁর জীবন, মত প্রকাশ, সম্পত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ধর্ম পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার প্রদান করে। সহজ ভাষায় বলা যায়, অধিকার হলো সেই বৈধ ক্ষমতা বা সুযোগ যা একজন মানুষের সমাজে শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয়।

অধিকার ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যে একটি সেতুবন্ধনের মতো কাজ করে, যা সমাজে ন্যায়, সমতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে। প্রতিটি মানুষের জীবনে অধিকার থাকা জরুরি, কারণ এগুলোই মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।

অধিকার কাকে বলে

অধিকার বলতে এমন কোনো বৈধ বা নৈতিক ক্ষমতাকে বোঝানো হয় যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন বা সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে অর্জন করে থাকে। এটি মানুষকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ করার সুযোগ দেয় এবং অন্যদের থেকে সুরক্ষা দেয়। যেমন, একজন মানুষের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার, নিজের ধর্ম পালনের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সম্পত্তি অর্জনের অধিকার ইত্যাদি।

অধিকার সাধারণত দুই ধরণের হয় প্রাথমিক অধিকার এবং প্রাপ্ত অধিকার। প্রাথমিক অধিকার হলো জন্মগত অধিকার, যা কারো জন্মের সঙ্গেই পাওয়া যায়, যেমন জীবন অধিকার, স্বাধীনতা। অন্যদিকে প্রাপ্ত অধিকার হলো যেগুলো সমাজ বা সরকার থেকে পাওয়া যায়, যেমন ভোট দেওয়ার অধিকার, শিক্ষা লাভের অধিকার।

অধিকার বলতে কি বুঝায় 

অধিকার বলতে মূলত এমন কোনো সুযোগ, স্বাধীনতা বা ক্ষমতাকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনগত ও নৈতিকভাবে স্বীকৃত এবং সুরক্ষিত থাকে। অধিকার না থাকলে একজন মানুষ তার জীবন বা মতামত প্রকাশ করতে পারে না, নিজেকে সুরক্ষিত মনে করতে পারে না এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে না।

অধিকার মানুষের জীবনকে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বাধীন করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, মানবাধিকার বলতে বোঝায় সেই সব অধিকার যা প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবেই পায়, যেমন জীবন, স্বাধীনতা, শিক্ষা, সমতা, ধর্ম পালন ইত্যাদি। এছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা দ্বারা মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করে।

মৌলিক অধিকার কি

মৌলিক অধিকার হলো সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত এমন অধিকারসমূহ, যা প্রত্যেক নাগরিক জন্মসূত্রে লাভ করে এবং যা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। এসব অধিকার নাগরিকের চিন্তা, মত প্রকাশ, ধর্ম পালন, চলাফেরা ও সমান আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্র মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য এবং অন্যায়ভাবে এসব অধিকার হরণ করলে নাগরিক আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারে।

মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়

মৌলিক অধিকার বলতে সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত এমন অধিকারসমূহকে বোঝায়, যা প্রতিটি নাগরিক জন্মসূত্রে লাভ করে এবং যা তার স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। এসব অধিকার নাগরিকের জীবন, মত প্রকাশ, ধর্ম পালন, চলাফেরা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্র এসব অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য এবং লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারে।

মৌলিক অধিকার কয়টি

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মৌলিক অধিকার মোট ১৮টি
এগুলো সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪) উল্লেখ আছে। এসব মৌলিক অধিকার নাগরিকের সমতা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

৫টি মৌলিক অধিকার কি কি

৫টি মৌলিক অধিকার বলতে সাধারণত খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা-কে বোঝানো হলেও, এটি মানবাধিকারের অংশ; সংবিধানের স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো যেমন: আইনের চোখে সমতা, স্বাধীনতা, শোষণ থেকে মুক্তি, ধর্মের স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, এবং সাংবিধানিক প্রতিকার) ভিন্ন, যা রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা হয়, যেমনটি বাংলাদেশ ও ভারতের সংবিধানে আছে। 

ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পার্থক্য কি

পরিশেষে

অধিকার মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। এটি সমাজে ন্যায়, সমতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকলে একটি শক্তিশালী ও উন্নত সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ ও স্বাধীনতায় জীবন যাপন করতে পারে। তাই অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

সুতরাং, অধিকার হলো মানুষের স্বাধীনতা, সুযোগ ও সুরক্ষার মূল ভিত্তি। এটি মানুষের জীবন ও সমাজের উন্নয়নের।  প্রত্যেকেরই উচিত নিজের অধিকার বুঝে তা রক্ষা করা এবং অন্যের অধিকার সম্মান করা, যাতে একটি সুন্দর ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গড়ে উঠতে পারে।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url